তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য
পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম জটিল রোগের অস্ত্রোপচার
সাখাওয়াত হোসাইন: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো সফলভাবে এক রোগীর জটিল রোগের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। রোগীর নাম কাজী ফরিদুল আলম। তিনি উপজেলার ভাটিখাইনের বাসিন্দা।
বিষয়টি আজ বুধবার (১৯ জুলাই) বিকেলে মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সব্যসাচী নাথ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল আলম দীর্ঘ দিন ধরে পায়ে জটিল বারসাইটিস (বারসা প্রদাহ) রোগে ভুগছিলেন। দিনে দিনে তাঁর পা সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছিল। তাঁর আর্থিক অবস্থাও সুবিধাজনক নয়, পরে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন তিনি। রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, এই হাসপাতালে তাঁর অপারেশন করবেন।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টায় ফরিদুল আলমের অস্ত্রোপচার শুরু হয়, সম্পন্ন হয়েছে বেলা একটার দিকে। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। তাঁর অবস্থা উন্নতির দিকে।
অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. সুরজিত ঘোষ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স সার্জারি) ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিয়া) ডা. সৌমেন বড়ুয়া। সহকারী হিসেবে ছিলেন ডা. সামিয়া আয়েশা ফারজানা ও সিস্টার ইনচার্জ শামীমা আক্তার।
জানতে চাইলে ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, সার্জারি এবং অর্থোপেডিক্স সার্জারির মেজর অপারেশন এটিই প্রথম। এর আগে কখনও হয়নি, তবে মাঝে মাঝে ছোট অপারেশনগুলো হয়। আর সিজারিয়ান সেকশন নিয়মিত হয়।
বর্তমানে রোগী সুস্থ ও ভালো আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সফল অস্ত্রোপচারে রোগী ও স্বজনরা খুবই সন্তুষ্ট। কারণ পটিয়া থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে এই ধরনের অপারেশন করতে অনেক টাকা খরচ হয়। সরকারি হাসপাতালে করলেও ২০-২৫ হাজার টাকা থাকা-খাওয়াসহ খরচ হবে। প্রাইভেটে আরও বেশি খরচে হবে। আর এখানে খুবই কম খরচ হয়েছে, যা রোগীর হাতের নাগালে ছিল। প্রায় দুই হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।
জানতে চাইলে ডা. সুরজিত ঘোষ মেডিভয়েসকে বলেন, অস্ত্রোপচারটি সুন্দরভাবে করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা খুবই ভালো, যদিও অনেক সময় লেগেছে। পটিয়াতে বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল। অপারেশন চলাকালীন তিনবার বিদ্যুৎ গেছে। সব মিলিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ অসাধারণ ছিল।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ, যা পটিয়াবাসী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। আমরা চেষ্টা করছি, মেজর সার্জারি, ছোট অপারেশন, সিজারিয়ান সেকশনসহ বিভিন্নভাবে জনগণকে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে। চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোও চেষ্টা করছে। এই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়মিত দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
এমইউ
-
১১ মে, ২০২৫
-
২৬ এপ্রিল, ২০২৫
-
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
ইউজিসি-ইউনেস্কোর যৌথ প্রকল্প
‘মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১০ হাজার শিক্ষার্থী’
-
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
-
৩১ জানুয়ারী, ২০২৫
-
১৯ জানুয়ারী, ২০২৫